রাকিব চৌধুরী, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মো. আল-আমিন শেখ (২৫)। গত সোমবার সন্ধ্যায় একটি বিষধর সাপ কাটে তাকে। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে তাকে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে সেখান থেকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও পাওয়া যায়নি ভ্যাকসিন। এরপরে তাকে খুলনা মেডিকেলে ভর্তি করে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে সারাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু গোপালগঞ্জের মতো জনবসতিপূর্ণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যাচ্ছে না এই ভ্যাকসিন। কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলার আরও ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও নেই অ্যান্টিভেনম। যার ফলে অধিকাংশ সাপে কাটা রোগীকে নির্ভর করতে হচ্ছে ওঝার ঝাড় ফুঁকের উপর। এতে অকালে জীবন হারাচ্ছে অনেকেই।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. শারফুদ্দীন আহমেদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অন্য সমস্ত জেলার উপজেলা পর্যায়ে যেখানে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হচ্ছে, সেখানে গোপালগঞ্জের কোনো উপজেলায় না দেওয়া অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং হতাশাজনক ব্যাপার। এক্ষেত্রে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রতিষেধক প্রয়োগ করতে হবে।
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, অ্যান্টিভেনম দিতে ডাক্তারদের অনীহা রয়েছে। কোনো কারণে রোগী মারা গেলে পরিবারের সদস্যরা ঝামেলা করেন। সেই সাথে এই ভ্যাকসিন অধিক মজুদ রাখা যায় না। বেশি দিন থাকলে নষ্ট হয়ে যায়। ইতোমধ্যে আমরা ২০০ ভ্যাকসিন চেয়ে চিঠি দিয়েছি। সেগুলো হাতে পেলে সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হবে।
মন্তব্য